অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর আশপাশের নদীগুলো লাশের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। অপরাধীরা হত্যার পর লাশ গুমের নিরাপদ ঠিকানা হিসেবে বেছে নিচ্ছে নদী। মূলত অপরাধ আড়াল করতেই নদীতে ফেলা হচ্ছে লাশ। কারণ পানিতে দেহ দ্রুত পচে প্রমাণ নষ্ট হয়ে যায়। কখনো কখনো মাছের কামড় বা জাহাজের প্রোপেলারের আঘাতে সৃষ্ট ক্ষতের কারণে হত্যাকাণ্ড কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায় না। তাতে বিভ্রান্ত হন তদন্ত কর্মকর্তা ও ফরেনসিক চিকিৎসকরা। এ সুযোগে অনেক ক্ষেত্রেই ঘাতকরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। বর্তমানে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী ও মেঘনা নদীতে সবচেয়ে বেশি লাশ পাওয়া যাচ্ছে। তবে হত্যার পর নদীতে লাশ ফেলার ঘটনা নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা অঞ্চলে বেশি ঘটছে। চলতি বছরের ৮ মাসে নদী থেকে ৩৭৯ লাশ উদ্ধার হয়েছে। তাছাড়া ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে নদী থেকে উদ্ধার হয় ২ হাজার ৬৪টি লাশ। যার মধ্যে অশনাক্তই রয়ে গেছে কয়েকশ লাশের পরিচয়। পুলিশ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, চলতি বছরের জুন থেকে আগস্ট ৩ মাসেই নদী থেকে ১৭১টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার মধ্যে ১২৩টির লাশের পরিচয় শনাক্ত হলেও এখনো ৪৮ লাশের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। ওসব লাশের মধ্যে ১৫টির ক্ষেত্রে হত্যা মামলা হয়েছে। আর ৭ জনের পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় উন্মোচন হয়নি রহস্যও। তাছাড়া ১৪০টি লাশের ক্ষেত্রে অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে এখনো ৪১ জনের পরিচয় এখনো শনাক্ত যায়নি। তাতে শনাক্তহীন লাশগুলোর মধ্যে কেউ খুনের শিকার হয়েছেন কিনা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
সূত্র জানায়, হত্যার পর লাশ গুমের জন্য অপরাধীরা নদীকে বেছে নিলেও ঢাকার আশপাশের নদীগুলোতে পাওয়া লাশগুলোর মধ্যে নৌকাডুবি, গোসল করতে নেমে নিখোঁজ, গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে মৃত্যুসহ বিভিন্ন কারণ রয়েছে। তবে পরিকল্পিত হত্যার পর গুমের উদ্দেশ্যে নদীতে ফেলার সংখ্যাও কম নয়। আর লাশ পাওয়ার পর পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে হত্যা মনে না হলে লাশ উদ্ধারের পর সাধারণত অপমৃত্যু মামলা হয়। তবে তদন্তে বা ময়নাতদন্তে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেলে পরে তা রূপান্তরিত হয় হত্যা মামলায়। বর্তমানে প্রতিনিয়ত নদীতে হাত-পা বাঁধা, বস্তাবন্দি বা টুকরো লাশ উদ্ধারের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। মূলত হত্যার পরলাশের পরিচয় লুকাতেই অপরাধীরা লাশ গুমে নদীকে বেছে নিচ্ছে।
সূত্র আরো জানায়, গভীর রাতে ব্রিজ থেকে এবং যেখানে বসতি কম সেখান থেকে লাশ ফেলা সহজেই নদীতে ফেলা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে যেসব জায়গা ও ব্রিজ থেকে নদীতে লাশ ফেলা হচ্ছে তা শনাক্ত করে সিসি ক্যামেরার আওতায় এনে নজরদারি বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি বাড়াতে হবে নদীপারের মানুষের মধ্যে পুলিশের সোর্সও। নজরদারিতে নদী নিরাপদ করা গেলেই নদীতে লাশ ফেলা কমে আসতে পারে।
এদিকে এ প্রসঙ্গে নৌপুলিশের প্রধান, অতিরিক্ত আইজিপি মো. রেজাউল করিম জানান, নদী থেকে লাশ উদ্ধার হলে সর্বাত্মক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হয়। যে লাশগুলো হত্যাকাণ্ড বলে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয় সেগুলোয় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। আর যে লাশগুলো পচে যায় সেগুলো উদ্ধারের সময় পাওয়া ক্লু নিয়ে পরবর্তী তদন্ত এগোনো হয়। অনেক ক্ষেত্রে লাশের পরিচয় ও কোনো দাবিদার পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে তদন্ত খুবই চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে। কিন্তু তারপরও নৌপুলিশ চেষ্টার কোনো কমতি রাখে না।
সূত্র:এফএনএস