বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
বাসাইলে ১০ কোটি টাকার সেতুর ফুটপাত ঢালাইয়ে রডের বদলে বাঁশ আফতাবনগর-বনশ্রী সংযোগে নতুন সেতু, কমবে নাগরিক দুর্ভোগ নওগাঁয় ঢোল-মাদলের ছন্দে মুখরিত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের কারাম উৎসব মানুষের দুঃখ-দুর্দশা শুনছেন গাজীপুরের ডিসি, মিলছে তাৎক্ষণিক সহায়তা আধুনিক রোবোটিক্স নিয়ে সেরা গবেষণার স্বীকৃতি পেল রুয়েট পবার বড়গাছীতে পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় বীজ বপন ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত শিশু নিখোঁজের দীর্ঘ তালিকা, স্বজনদের অসহায় কান্নায় উদ্বিগ্ন দেশ কারাগারে বাড়ছে বন্দিমৃত্যুর সংখ্যা ভুলেও যেসব কথা বলা যাবেনা এআইকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৩০০ মেগাওয়াট, সোলার প্যানেল বসবে ৬,৫৪৪ প্রতিষ্ঠানে

মানুষের দুঃখ-দুর্দশা শুনছেন গাজীপুরের ডিসি, মিলছে তাৎক্ষণিক সহায়তা

  • প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২.১৭ পিএম
  • ৩২ দেখেছেন:

স্টাফ রিপোর্টার: সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ ও নানা দুর্ভোগের কথা সরাসরি শুনে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিয়ে জনসেবায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।

প্রতি বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশেষ গণশুনানি। দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসহায়, দুস্থ, নিগৃহীত ও বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত মানুষ এখানে সরাসরি জেলা প্রশাসকের কাছে তাদের কথা তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন। ধৈর্য ও আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের বক্তব্য শোনার পাশাপাশি যেসব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব, সেগুলোর বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্মকর্তাদেরও দেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা।

ফলে নানা দুশ্চিন্তা ও হতাশা নিয়ে গণশুনানিতে আসা অনেক মানুষই সমাধানের আশ্বাস ও সহযোগিতা নিয়ে স্বস্তি ফিরে পাচ্ছেন।

বুধবারের গণশুনানিতে উঠে আসছে গাজীপুরের সাধারণ মানুষের জীবনের নানা বাস্তব সমস্যা। এর মধ্যে রয়েছে চিকিৎসা সহায়তা, আর্থিক সংকট, পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধ, ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতা, সরকারি ভাতা, কর্মসংস্থান, বকেয়া বেতন এবং স্থানীয় অবকাঠামোগত নানা দাবি।

পঙ্গু বাবার চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা চাইতে গণশুনানিতে আসেন পোশাক শ্রমিক সানিয়া আক্তার। তার পরিস্থিতি শুনে জেলা প্রশাসক তাকে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।

অন্যদিকে, টঙ্গীর ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত অসহায় বৃদ্ধা সামসুন্নাহারের চিকিৎসার জন্যও তাৎক্ষণিকভাবে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

গণশুনানিতে শুধু চিকিৎসা বা আর্থিক সমস্যাই নয়, পারিবারিক ও সামাজিক নানা সমস্যার কথাও উঠে আসে। স্বামী মারা যাওয়ার পর ভাসুর ও আত্মীয়দের কারণে গৃহহীন ও নানা অন্যায়ের শিকার হন বিধবা হালিমা আক্তার। তার দুর্দশার কথা শুনে জেলা প্রশাসক বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য সদর সার্কেলের এসিল্যান্ডকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

জমি অধিগ্রহণের বিল, মাতৃত্বকালীন ভাতা, বিভিন্ন কারখানার বকেয়া বেতন আদায়, সড়ক সংস্কারসহ নানা জনদুর্ভোগের বিষয়ও গণশুনানিতে তুলে ধরছেন নাগরিকরা।

এ ছাড়া কোনো কোনো এলাকায় নতুন ভূমি অফিস ও হাসপাতাল স্থাপনসহ স্থানীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবিও জেলা প্রশাসনের নজরে আনা হচ্ছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সমাজসেবা অধিদপ্তর, মহিলা ও শিশু বিষয়ক বিভাগ, প্রতিবন্ধী কল্যাণ ট্রাস্ট এবং ত্রাণসহ সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণমূলক কার্যক্রমের সুবিধা যাতে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য একটাই—একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ তার নিজের অধিকার বুঝে পাবে। প্রতিদিন এই মানুষগুলোর মুখের দিকে তাকালে মনে হয়, তাদের জন্য কিছু করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”

তার এই বক্তব্যে গণশুনানির মূল উদ্দেশ্যই প্রতিফলিত হয়েছে—প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমানো এবং সরকারি সেবাকে আরও সহজলভ্য করা।

সঠিক ব্যবস্থাপনা, আন্তরিকতা ও সহমর্মিতার সমন্বয়ে নিয়মিত গণশুনানি পরিচালনার মাধ্যমে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সরাসরি যোগাযোগের একটি কার্যকর ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।

গাজীপুরে নিয়মিত গণশুনানির এই উদ্যোগকে মাঠ প্রশাসনের জন্য একটি অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা যেতে পারে। জেলা প্রশাসক সরকারের নির্বাহী প্রতিনিধি হিসেবে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সমাজের দুর্বল, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সমস্যার প্রতিও কার্যকরভাবে নজর দিতে পারেন।

দেশের অন্যান্য জেলাতেও নিয়মিত ও কার্যকর গণশুনানি জোরদার করা হলে প্রশাসনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব কমবে এবং নাগরিকরা সরকারি সেবা ও সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে আরও সহজ সুযোগ পাবেন।

একই সঙ্গে সরকারি তহবিল, বিভিন্ন ভাতা, চিকিৎসা সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা যাতে প্রকৃত দুস্থ ও প্রয়োজনীয় মানুষের কাছে পৌঁছে, সেদিকেও জেলা প্রশাসকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।

মানুষের কথা শোনা, সমস্যার গুরুত্ব বিবেচনা করা এবং সম্ভব ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার এই সংস্কৃতি দেশের বিভিন্ন জেলায় কার্যকরভাবে চালু হলে প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হতে পারে। আর সেই পথ ধরেই মানুষের অধিকার ও সরকারি সেবা নিশ্চিত করার একটি আরও মানবিক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।

শেয়ার করুন

আরও খবর>
© All rights reserved © 2010-2026 Naogaonvision
Theme Download From CreativeNews