ফুটবল বিশ্বে প্রায় দেড়যুগের মেসি-রোনালদো দ্বৈরথের পর্ব এখন অনেকটাই শেষের পথে। তাদের সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে অস্তমিত হচ্ছে, তখনই পূর্ব গগণে উদয় হচ্ছে নতুন তারকাদের আগমণ। তাদের মধ্যে নজরকাড়া পারফরম্যান্স করে ইতোমধ্যেই লাইমলাইটে আছেন বিশ্বকাপজয়ী লামিনে ইয়ামাল ও কিলিয়ান এম্বাপ্পে।
২০২৬ বিশ্বকাপেও দারুণ পারফর্ম করেছেন তারা। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন এমবাপ্পে। ইয়ামাল সেভাবে গোল না পেলেও তার দল এখন চ্যাম্পিয়ন। সেটিতে অবদান ছিল বিস্ময় বালকখ্যাত ইয়ামাল। সেই পারফরম্যান্স দিয়ে ফুটবলের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সম্মানজনক পুরস্কার ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে নিজেদের নাম লিখিয়েছেন তারা।
সেই ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌঁড়ে রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে মুখ খুলেছেন বার্সেলোনার তারকা লামিনে ইয়ামাল।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’-এর সঙ্গে আলাপচারিতায় ইয়ামালকে প্রশ্ন করা হয়– এবার কার ব্যালন ডি’অর প্রাপ্য? জবাবে ইয়ামাল বলেন, ‘আমি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়কেই এটি দেব। তবে কাকে দেওয়া হবে, সেটা নিয়ে অনেক দীর্ঘ আলোচনা হতে পারে। সত্যি বলতে, আমি মনে করি আমরা দুজন বিশ্বের সেরা।’
নিজেকেই বিশ্বের সেরা দাবি করে ইয়ামাল বলেন, ‘এমবাপ্পে এবং আমি বিশ্বের সেরা, আর যারা ম্যাচ দেখে, তারা সবাই সেটা জানে। আমাদের মুখোমুখি লড়াই হয়েছে এবং সবকিছুতেই আমি তাকে হারিয়েছি। সে অনেক গোল করেছে। আর সে কারণেই পিচিচি পুরস্কার (স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার দেওয়া পুরস্কার) জিতেছে।’
বিশ্বকাপ জয় এবং ব্যালন ডি’অরের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক থাকার ধারণাও প্রত্যাখ্যান করেছেন ইয়ামাল। তিনি বলেন, ‘আমিও এটাকে সঠিক মনে করি না। কারণ আমি বিশ্বাস করি না যে, একটি মাত্র প্রতিযোগিতা আপনাকে এই পুরস্কার এনে দেয়।’
ইয়ামাল বলেন, তবে কাকতালীয় বিষয় হলো, আমি এমন একটি জাতীয় দলে খেলি, যারা বিশ্বকাপ জিতেছে। আর ইংল্যান্ড যদি বিশ্বকাপ জিতত, তাহলেও আমি বলতাম- এই মুহূর্তে এমবাপ্পে এবং আমিই বিশ্বের সেরা।’
অল্প বয়সে তারকা হয়ে ওঠার প্রসঙ্গে বার্সেলোনার এই তারকা বলেন, ‘মেসি বা রোনালদোর মতো দুর্দান্ত তারকারা ছিলেন, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এত কম বয়সে এমন প্রতিভার ঝলক আমি মনে করি কখনো দেখা যায়নি।’
তবে এত অল্প বয়সে সাফল্য পেলেও থেমে যেতে চান না ইয়ামাল। তিনি বলেন, ‘মানুষ মনে করে, আমি জিতে গেছি বলে এখন আরাম করব। কিন্তু ফুটবলের ইতিহাসে অর্জন করার মতো আমার সামনে এখনো অনেক কিছু রয়েছে।’